Category: Flora

উদ্ভিদের ফিজিওলজিক্যাল রহস্য

ফুল কেন রঙিন হয় এই ব্যপারে কৌতুহলের অন্ত ছিলো না, এখনো হয়ত অনেকের মনে এই প্রশ্ন জাগতে পারে। ফুল লাল হওয়ার জন্য দায়ী ক্রোমোপ্লাস্ট নামক পিগমেন্ট। ক্রোমোপ্লাস্টে থাকে ক্রোমোফিল আর এটিই হলো উদ্ভিদ এর কোন অঙ্গের বর্নের জন্য দায়ী।

পঙ্খিরাজ ফার্ণ

প্রায় দেড় হাজার কোটি বছর আগের কথা। মহাকাশে দু’টি বিশাল নক্ষত্রের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি নক্ষত্র ভেঙ্গে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভাঙ্গা অংশগুলো থেকেই কোটি কোটি বছরের বিবর্তনে পৃথিবী...

ফুলের বংশ পরিচয়

বিয়ে-শাদি বলে কথা! আর যাই হোক এটা নিয়ে তো অবহেলা করা যায় না! তাইতো গুরুত্বের সাথে প্রাধান্য দেয়া হয় বংশ পরিচয় উপাধি পদবী ইত্যাকার বিষয় গুলোকে। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় অধিকাংশ...

সামুদ্রিক আগাছা Sargassum

সমুদ্র তার বক্ষে শুধু প্রানীদের আশ্রয় দেয়নি দিয়েছে অনেক উদ্ভিদের আশ্রয়। তাইতো আমরা উপমা দিয়ে থাকি “সমুদ্রের মত বিশাল হৃদয়”। এমনি এক উদ্ভিদ সারগাসাম এই বিশাল সমুদ্রে আশ্রিত যাকে মেক্রো শৈবাল বলা হয়। এটি মুলত বাদামি শৈবাল যা Phaeophyceae শ্রেনী ভুক্ত ও Fucales বর্গের সামুদ্রিক উদ্ভিদ। এদের অসংখ্য প্রজাতি আছে যারা ক্রান্তিয় ও উপক্রান্তিয় সমুদ্রে বসবাস করে। আমাদের সেন্টমার্টিন কোরাল দ্বীপে এদের দেখা যায়।

Wind flower

আনেমনে নিমোরোজা

বসন্তের শুরুতে ইউরোপের কিছু দেশে ফরেস্ট গুলোতে অল্প সময়ের জন্য বসে তারার মেলা। আমি অধির হয়ে একটা বছর অপেক্ষায় থাকি এই অপার রুপ এক নজর দেখার জন্য। প্রত্যেক বছর ছবি তুলে নিয়ে আসি তবু যেন মনে হয় প্রকৃত রুপ আমার ক্যামেরায় ধরা দেয়নি। বনে মেলা বসানো ফুলটির নাম আনেমনে নিমোরোজা।

বিলুপ্ত প্রায় বাঁশ ও বেতের ঝুড়ি

বাঁশ বা বেতের তৈরী নানাবিধ সামগ্রী আমাদের শিল্প, আমাদের লোকঐতিহ্য l একটা সময় ছিল আমাদের এই লোকসামগ্রী নিত্য দিনের সাংসারিক কাজে ব্যবহৃত হত l গৃহের আসবাব তৈরিতে যেমন বেতের ব্যবহার ছিল তেমনি ছিল বাঁশ দ্বারা নির্মিত ঝুড়ি , কুলা, মাছ ধরা টোপা এমন হরেক রকমের ব্যবহার ছিল যা আজ বিলুপ্তির পথে l

হরেক রকম কচু

কথায় কথায় কচু শব্দটি অনেক তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে ব্যবহার করা হয়। এই কচুর এত গুনাগুন তারপরেও কেন কচু শব্দটিকে ব্যাঙ্গাত্বক ভাবে ব্যবহার করা হয় আমার জানা নেই। কচু দিয়ে ইলিশ রান্না করলে আপনি আমি খুশি হয়ে যাই কিন্তু যখনই কচু শব্দটি আপনাকে আমাকে উদ্দেশ্য করে ব্যবহার করা হয় তখন আমরা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠি। কারন হিসেবে এর ব্যখ্যা আমার জানা নেই। তবে কবি গুরু কচুকে বিশেষ সম্মান দিয়ে কবিতা রচনা করতে ভুল করেননি।

Floralia Brussels festival

১৩ বছর ধরে আয়োজিত হয়ে আসছে “ফ্লোরালিয়া ব্রাসেলস”। এ বছর ২০১৬ বসন্তে ৬ই এপ্রিল থেকে ৬ই মে পর্যন্ত প্রদর্শনী আয়োজিত হচ্ছে। এক্সিবিশনের ৪ সপ্তাহে দর্শকরা উপভোগ করতে পারেন ৫০০ প্রজাতির বালব ফুল যার বিরাট অংশ ৪০০ প্রজাতির রয়েছে মন মোহনীয় টিউলিপ।

কম্পোস্ট ও পটিং সয়েল

সবাই বাগান ও ফুলের ছবি দেন আমি এক নজর গাছের গোড়ায় ফেলি, দেখে নেই গাছের গোড়ায় হিউমিডিটি বা আদ্রতা, মাটি বেলে কিংবা এটেল কিনা এবং মাটিতে কম্পোস্টের কালো রঙ দেখা যায় কিনা। কম ফুল ফোটার জন্য বাংলাদেশের গরম আবহাওয়া যতখানি দায়ী ঠিক ততোখানি সঠিক পুষ্টি না পাওয়া দায়ী। অপুষ্ট গাছে বেশি ফুল বা ফল আশা করা ভুল।

Tridax

প্রকৃতির অলংকার ত্রিধারা

Tridax বলতে এই ফুলের পাপড়ীতে তিনটি খাঁজ বা লোব কে বোঝায় (Holm et al)। বাংলায় বলতে গেলে “শায়িত লতানো তিন লোব বিশিস্ট বা খাঁজ কাটা ফুল”। বাংলায় “ত্রিধারা” নামকরন করার কারন হলো এই উদ্ভিদের পাপড়ীতে তিনটি লোব বিশিস্ট খাঁজ কাটা আর এর উপর ভিত্তি করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদ বিজ্ঞানি প্রফেসর ড: কাজী আব্দুল ফাত্তাহ ১৯৭০ সালে এর বাংলা নামকরন করেন “ত্রিধারা”

Lemon balm

লেমন বাম

ফুল বাগানের পাশাপাশি ছোটখাটো একটা কিচেন গার্ডেন করি সব সময়। রান্না ও সবুজ চায়ে সবসময় প্রয়োজন হয় পুদিনা, থাইম, রোজমেরি, সুইট বাজিল, পার্পল বাজিল আর আমার খুব প্রিয় লেমন বাম। অসাধারন লেবুর ঘ্রান সমৃদ্ধ লেমন বাম চা খুব উপাদেয় তাছাড়া এর পাতা থেকে প্রস্তুত আইস টি অথবা টনিক আমার ভিশন প্রিয়।

পাখি কর্তৃক পরাগায়নের দৃশ্য দেখানো হয়েছে।

উদ্ভিদজীবন ও পলিনেটর

উদ্ভিদের পুষ্পরস সব পলিনেটর পছন্দ করে না। পরাগের জীবনকাল (Longivity) পরাগায়নের জন্য বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সার্থক পরাগায়ন ও নিষেক প্রক্রিয়াটি খুবই জটিল একটি প্রক্রিয়া। বিভিন্ন পরিবেশগত বিষয়ের সাথে পলিনেটর সক্রিয় থাকে যখন এদের সাথে উদ্ভিদের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠে তখনই সঠিক কার্যক্রম ঘটে ও ভ্রূণ, বীজ তথা ফলন নিশ্চিত হয়।

Magnolia macrophylla subsp. ashei

বড় পাতা ম্যাগনোলিয়া

বিশাল আকারের সাদা ফুল স্বাভাবিক ভাবেই দৃষ্টি আকর্ষনের কারণ, দুঃখের বিষয় অধিকাংশ সময় তা অনেক উঁচুতে ফলিয়াযে লুকিয়ে থাকে। মধু মাছি ও প্রজাপতি কিন্তু তার পিছু ছাড়ে না। ছয় খানা সাদা পুষ্প দল হলুদ ও খয়েরি মধ্য ভাগকে ঘিরে রাখে। বসন্ত ও গ্রীষ্মের প্রারম্ভে এর সুবাস ছড়ায়।

ভ্যানিলা পুস্প

সুবাসিত অর্কিড ভ্যানিলা

আমরা শৈশবে কৈশোরে যৌবনে যে সব ভ্যানিলা আইসক্রিম, কেক, পুডিং খেয়েছি বা খাচ্ছি সেই ভ্যানিলার প্রধান উৎস হলো এক প্রকার অর্কিড যার গনের নাম Vanilla. আমি সেই ভ্যানিলার কথাই বলছি, এই ফ্লেভার আমরা পেয়ে থাকি ভ্যানিলা নামক এক প্রকার অর্কিডের বিন (ফল) থেকে। অর্কিড বিনগুলো হাতে নিলে এর কোন প্রকার গন্ধই পাওয়া যায় না একে বিশেষ ভাবে প্রক্রিয়াজাত করে তারপর তৈরি করা হয় মুল্যবান ভ্যানিলা এক্সট্রাক্ট।

কুসুমে কুসুমে চরণচিহ্ন

ফুলের সাথে আমার প্রথম পরিচয় কবে হয়েছিলো মনে নেই। তবে ছোট বেলায় ঝুমকো ফুলের (Passiflora foetida) সাথে আমার প্রনয় ছিলো গোপনে অভিসার হতো, এই ফুলের বেগুনী রঙ ও মিস্টি গন্ধ আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকতো, তার ডাকে সাড়া দিয়ে তাকে চুমু খেতে যেয়ে কত পিপড়া যে আমার নাসারন্ধ্র দিয়ে ঢুকেছে তা ঝুমকা ফুল জানে।

জেরুসালেম আর্টিচক্স

জেরুসালেম আর্টিচক সান ফ্লাওয়ারের আরেক প্রজাতি তাই একে সানচক্স বলা হয়। যেহেতু সবজি হিসেবে এর কন্দ ব্যবহার হয় তাই একে সানরুট ও বলা হয়। নামের আসল উৎস ‘Girasole’ ইটালিয়ান শব্দ l জেরুসালেম আর্টিচক্স সতেরশ শতাব্দীর গোরার দিকে ইউরোপে আগমন ঘটে রোমের ফার্নেস গার্ডেনে, মুলত এটি ছিলো উত্তর আমেরিকার সবজি। রোমে একে বলা হত ‘জিরাসলে আর্তিশো’ যার অর্থ সানফ্লাওয়ার আর্টিচক্স। ডক্টর টবিয়াস ভিন্নে একে ‘জেরুসালেম’ নামে আখ্যায়িত করেন।

তমালের স্ত্রী পুস্প

বিপন্ন উদ্ভিদ তমাল

Diospyros যা প্রাচীন দু’টো গ্রীক শব্দ থেকে নেয়া হয়েছে। “Dios” ও “pyros” যার বাংলা শব্দার্থ হলো ঐশ্বরিক ফল ও ঐশ্বরিক খাদ্য। এছাড়াও কেউ কেউ এর শব্দার্থ করেছেন “Wheat of Zeus”. যাই হোক Diospyros নিয়ে ব্যখ্যা অনেকটাই কনফিউজিং যেমন অনেকেই একে ব্যখ্যা দিয়েছেন “God’s pear” এবং Jove’s fire” বলে।

Lemon

জীবন বাঁচাতে ও সাজাতে উদ্ভিদ

সকালে রাস্তার পাশে চা পান করতে যেয়ে দেখলাম কমলালেবুর রস দিয়ে তৈরী রং চা (Tea without milk), নতুনত্ব দেখে আগ্রহ ভরেই অর্ডার দিলাম তখনও চিন্তা করিনি Cytras ফল নিয়ে লিখবো কিন্তু বিক্রেতা কমলা লেবুর চায়ের বর্ননা করছিলো এমনভাবে যে আর না লিখে পারলাম না।

রূপসী বাতি লতা

এরা অন্য বৃক্ষ পুরানো দেয়াল কে অবলম্বন করে বেড়ে উঠে এবং নোড ও ইন্টারনোড থেকে যে শেকড় বের হয় তা অবলম্বনকে আঁকড়ে ধরে উপরের দিকে ধাবিত হয়। তবে এরা পরজীবী নয় পরাশ্রয়ী লতা নিজেদের খাদ্য নিজেরা প্রস্তুত করতে পারে। আদ্র আবহাওয়া ছায়াযুক্ত পরিবেশে ও সামান্য বৃস্টিতে এরা স্বাচ্ছন্দে বেঁচে থাকে। বাতি লতার ফুল কখনো দেখিনি তবে যেটুকু জেনেছি এর ফুল গোলাপী লাল বর্নের ও পুস্প বিন্যাস imbrecate.

পারুল

চেনা অচেনায় পারুল

পারুল বলতে সচরাচর আমরা লতা পারুলকে চিনি যার বোটানিকাল নাম Mansoa alliacea, কিন্তু প্রকৃত পারুল যা লোক গাথায় উল্লেখ পাওয়া যায় “সাত ভাই চাম্পা ও একটি পারুল বোন” সেই পারুল গাছ মোটেও লতানো নয় বরং ৩০ থেকে ৪০ ফুট উছু বৃক্ষ বিশেষ।

error: Content is protected !!