সিলেট অঞ্চলে ৪৬ জাতের মাছ বিলুপ্তির পথে


6 June 2016. হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস:

নদ-নদী, হাওর, বাঁওড় ও বিল প্রধান সিলেট একসময় প্রাকৃতিক মত্স্য সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে সুপরিচিত ছিল। এক যুগ আগেও ১০৭ প্রজাতির মাছ ছিল এখানে। এর মধ্যে ৪৬ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। জলাশয় ভরাট, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, কীটনাশকের ব্যবহার ও অবাধে মত্স্য নিধনের ফলে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ। সিলেট বিভাগীয় মত্স্য অধিদফতর জানিয়েছে, বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে ২০১১ সাল থেকে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে মত্স্য অধিদফতর। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষ, প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে মত্স্য বিভাগের সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক ড. নিত্যানন্দ দাস বলেন, দেশীয় ও বিলুপ্ত প্রজাতির মাছের চাষ বাড়াতে মত্স্য বিভাগ থেকে চিহ্নিত অবক্ষয়িত জলাশয় উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা এবং দেশীয় প্রজাতির ছোট মত্স্য সংরক্ষণ প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৮১ লাখ টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত ও নার্সারি স্থাপন করে মাছের প্রজাতি সংরক্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজাতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হচ্ছে, মহাবিপন্ন, সংকটাপন্ন ও বিপন্ন প্রজাতি। এরমধ্যে মহাবিপন্ন প্রজাতি মাছের মধ্যে রয়েছে- টাটকিনি, ঘারুয়া, বাঘাইড়, রিটা, রাণী, পাঙ্গাস, বামোশ, নাফতানি, চিতল, একথুটি ও চাকা। সংকটাপন্ন প্রজাতির মাছের মধ্যে রয়েছে- বাচা, ছেপচেলা, ঢেলা, বাঁশপাতা, কুঁচে, নাপতে কই, বাতাসিয়া টেংরা, ফলি ও গুজিআইড়। বিপন্ন্ন প্রজাতির মাছের মধ্যে রয়েছে- গুলশা, গনিয়া, দাড়কিনা, আইড়, পাবদা, বড়বাইম, গজার, তারাবাইম, তিতপুঁটি, নামা চান্দা ও কালিবাউশ। সিলেট জেলা মত্স্য কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র পাল বলেন, তালিকার বাইরেও আরো কিছু প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যেমন চাপিলা মাছ, বালিগড়া, গুতুম, ভেড়া, খাকি, উপল, চেলাপাতা, লাড়িয়া প্রভৃতি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ নিধন, সেচের মাধ্যমে মত্স্য আরোহণ, জলাশয়ে যত্রতত্র বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি, জলবায়ুর পরিবর্তন, অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহারসহ নানা কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে হাওর অঞ্চলের মত্সজীবীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি প্রয়োজন। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মত্স্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. শাহাবউদ্দিন বলেন, মাছের উত্পাদন ও বিলুপ্তি ঠেকাতে হাওরের জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মা মাছের নির্বিঘ্নে বড় হওয়া ও প্রজননের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি উন্মুক্ত জলাশয়, বিল ও নদীতে অভয়াশ্রম স্থাপন করা প্রয়োজন। মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধির জন্য নিরাপদ বিচরণস্থল তৈরি করতে না পারলে কোনোভাবেই মাছের বিলুপ্তি রোধ করা সম্ভব হবে না।

Source: www.ittefaq.com.bd/print-edition/others/2016/06/06/123827

Photo Source: www.amadershomoys.com <http://www.amadershomoys.com/unicode/2016/04/02/92551.htm>

error: Content is protected !!