মিলিবাগ

যারা গাছপালা পছন্দ করেন তারা নিশ্চয়ই মিলিবাগের সাথে পরিচিত আছেন। এটা একধরনের পোকা যার আক্রমনে উদ্ভিদের অনেক ক্ষতি সাধন হয়। এরা সাধারনত সিস্টের চারিপাশে তুলার মত একটা আবরন তৈরি করে ফলে অনেক রকম পেস্টিসাইড ব্যবহার করেও আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায়না।আমরা গাছের পাতায় ও ডালপালায় যে ধরনের মিলিবাগ দেখতে পাই তা হলো স্ত্রী পোকা এরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাফেরা করতে পারেনা। পুরুষ মিলিবাগ উড়ে বেড়াতে পারে সুতরাং এরা গাছের সুবিধা জনক স্থানে বসে স্ত্রী মিলিবাগ কে ক্যামিকেল সিগনাল পাঠিয়ে বলে এখানে প্রচুর খাবার আছে তুমি চলে এসো কিন্তু স্ত্রী মিলিবাগ তখন এই সিগনালে সাড়া দিতে পারে না যেহেতু এরা চলাচলে অক্ষম।

পুরুষ মিলিবাগের এই সিগনাল এক ধরনের কালো পিঁপড়ার এন্টিনায় ধরা পড়ে ও তাৎক্ষনিক ভাবে এরা মিলিবাগের সংষ্পর্শে ছুটে গিয়ে দুজনে সিমবায়োটিক বুঝাপড়া সেরে নেয়। কিছু শর্ত সাপেক্ষে পিঁপড়া বাহক হিসেবে স্ত্রী মিলিবাগকে পুরুষ মিলিবাগের কাছে পৌঁছে দেয়। বিনিময়ে মিলিবাগ খাবার গ্রহন করার পর তাদের মিষ্টি বিষ্ঠা গুলো পিঁপড়াকে ভক্ষন করতে দেয়। এভাবেই চলতে থাকে এদের লাইফ সাইকেল। সুতরাং যেখানেই মিলিবাগের আক্রমন সেখানেই পিঁপড়ার আনাগোনা দেখা যায়।

মিলিবাগের আক্রমন হতে বাঁচতে হলে এর বাহন পিঁপড়া ধ্বংস করতে হবে অথবা এদের যাত্রা পথে ব্যারিকেড দিতে হবে তাহলে আপনার প্রিয় উদ্ভিদকে এদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারবেন। এছাড়া মিলিবাগ আক্রান্ত গাছে প্রথম জোরে পানি স্প্রে করে এদের সিস্টের চারপাশে সৃষ্ট তুলার মত আবরন সরিয়ে দিয়ে আধা ঘন্টা পর পেস্টিসাইড স্প্রে করলে আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যাবে।

ছবিঃ সংগৃহীত।

লেখকঃ আজহারুল ইসলাম।